​মক্কার তপ্ত তপ্ত মরুজলবায়ু থেকে আল-বাহার মেঘের দেশে: উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-কল্যাণ পরিষদের স্মরণীয় শিক্ষা সফর

​দীর্ঘ এক সেমিস্টারের কঠোর মুজাহাদা আর পরীক্ষা-কেন্দ্রিক ব্যস্ততা শেষে ছাত্রজীবনের একঘেয়েমি দূর করতে এবং দেহ-মনে সতেজতা ফিরিয়ে আনতে ‘উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী ছাত্র-কল্যাণ পরিষদ’ আয়োজন করেছিল এক রাজকীয় ও আনন্দঘন শিক্ষা সফর। গন্তব্য ছিল আরবের চিরসবুজ ও ছবির মতো সুন্দর পাহাড়ি শহর ‘আল-বাহা’।​

ভ্রাতৃত্বের সুতোয় গাঁথা এক পরিবার

​প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে স্বদেশ থেকে হাজার মাইল দূরে বিদেশের এই পুণ্যভূমিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী ছাত্র-কল্যাণ পরিষদ প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ঠিকানা। “প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”—এই স্লোগানকে ধারণ করে আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এই দীর্ঘ সফরের মূল লক্ষ্য।​

যাত্রা শুরু: তপ্ত মক্কা থেকে সুশোভিত আল-বাহা​

মক্কার তপ্ত আবহাওয়া পেছনে ফেলে আমাদের কাফেলা যখন ফুলে-ফলে সুশোভিত তায়েফ হয়ে মেঘের রাজ্য আল-বাহার দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন সবার চোখে-মুখে ছিল এক অনাবিল প্রশান্তি। সফরের শুরুতেই ফজরের নামাজের পর সকল ভাইদের নিয়ে এক স্মৃতিময় ফ্রেমবন্দি মুহূর্ত (গ্রুপ ফটো) আমাদের যাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।​

দর্শনীয় স্থান ও বিচিত্র অভিজ্ঞতা

​সফরের মূল আকর্ষণ ছিল আল-বাহার বিখ্যাত ‘রাগাদান পার্ক’। পাহাড়ের চূড়ায় কুয়াশা আর মেঘের লুকোচুরি শিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করে। এরপর আমাদের কাফেলা ঐতিহাসিক ‘ক্বারিয়াতু যিল আইন’ (The Marble Village) পরিদর্শন করে। কয়েকশ বছরের পুরনো এই পাথুরে গ্রামের স্থাপত্যশৈলী ও ঝর্ণার ধারা সবাইকে বিমোহিত করে।​

বিনোদন ও মেধা অন্বেষণ: সাংস্কৃতিক আয়োজন​

শুধু ঘোরাঘুরি নয়, সফরের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল শিক্ষণীয় ও আনন্দদায়ক। পথে ও গন্তব্যে আয়োজিত হয়েছিল বিচিত্র সব সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা:​

আঞ্চলিক ভাষার আড্ডা: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষায় কথোপকথন এক হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশ তৈরি করে।​

মেধা যাচাই: উপস্থিত সাধারণ জ্ঞান ও প্রশ্নোত্তর পর্ব।​

সীরাত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ: সফরের অন্যতম আধ্যাত্মিক অংশ ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সীরাত নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রতিযোগিতা। বিজয়ীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এই আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়।

​সমাপ্তি ও কৃতজ্ঞতা

​মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানিতে আমাদের এই দূরপাল্লার সফরটি ছিল অত্যন্ত নিরাপদ ও কামিয়াব। এই আয়োজন কেবল একটি ভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল নিজেদের মধ্যে প্রীতি ও মহব্বত বিনিময়ের এক অনন্য মাধ্যম।​পরিশেষে, আমরা মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি এবং আশাবাদ ব্যক্ত করছি যে, আগামী দিনগুলোতেও এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সুন্দর ও কল্যাণমুখী আয়োজন অব্যাহত রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top